সুবিচারের আশায় পুরুষ কল্যাণ পাবলিক চ্যারিটিবল ট্রাস্ট

9th August 2021 5:08 pm স্থানীয় খবর
সুবিচারের আশায় পুরুষ কল্যাণ পাবলিক চ্যারিটিবল ট্রাস্ট


আজকে আমরা মুর্শিদাবাদ জেলার ডিস্ট্রিক্ট সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অফিসারের (DSWO)  এবং প্রোটেকশন অফিসারের ( Protection Officer) কাছে এসেছিলাম ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স আইনের আওতায় পুরুষদের অন্তর্ভুক্তিকরণের জন্য এবং পুরুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা DIR Report এর বিষয়টি তুলে ধরার জন্য।

আজকে আমাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অসীম বিশ্বাস, আমি কাজল বিশ্বাস, সাহিদ আহমেদ সিদ্দিকী এবং সামিম মোল্লা। 

আমাদের দেশে ২০০৫ সালে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট (DV Act) আনা হয়েছিল নারীদের গার্হস্থ্য হিংসা থেকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য।  অথচ আশ্চর্যের বিষয় পুরুষের জন্য এই আইনে সুরক্ষার কোন ব্যবস্থা নেই। 

কিন্তু যত দিন যাচ্ছে ততই দেখা যাচ্ছে পুরুষরাও অনবরত গার্হস্থ্য হিংসা শিকার  হচ্ছেন।  অথচ এই ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্টে পুরুষদের জন্য কোন বিচার নেই । ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স আইনের আওতায় শুধুমাত্র একজন নারীই বিচার চাইতে পারেন, একজন পুরুষের কোন স্থান নেই।

আমরা প্রতিদিন দেখতে পাচ্ছি বাড়িতে বাড়িতে স্ত্রীর হাতে পুরুষ বিভিন্নভাবে অত্যাচারিত হচ্ছেন। কখনো পরকীয়ার জন্য খুন করা হচ্ছে স্বামীকে, কখনো বাড়ি ঘর থেকে আলাদা করে দেওয়া হচ্ছে বৃদ্ধ বাবা-মা শুদ্ধু স্বামীকে । এছাড়া বিভিন্নভাবে পুরুষের ভয় দেখানো, মিথ্যা মামলাযর হুমকি দেখানো এসব তো রয়েছেই । 

আমাদের দেশে সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে আইনের চোখে সবার সমঅধিকার হলেও এক্ষেত্রে কিন্তু তার উল্লংঘন ঘটছে।  আমেরিকা-ব্রিটেন ইত্যাদি বিভিন্ন দেশে গার্হস্থ্য হিংসা আইন সম্পূর্ণ লিঙ্গনিরপেক্ষ এবং এই আইনের আওতায় নারী বা পুরুষ উভয়েই বিচার চাইতে পারেন।

আমরা ভারতীয় পুরুষরা আজকে অসহায় ভাবে বেঁচে আছি। নারীদের জন্য শুধু ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট নয় এছাড়াও রয়েছে 498a, CrPC 125 ইত্যাদি বহুবিধ আইন। আজকে আমরা এই কারণে আপনাদের কাছে এসেছি যাতে পুরুষদের এই ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের আওতায় আনা হয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে ভারতের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পুরুষ মানুষ কোনো না কোনো ভাবে গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হন। বিভিন্ন সময়ে এই বিষয়টি গবেষণামূলক পত্রে প্রকাশিত হয়েছে।  অথচ পুরুষরা লজ্জায় সামনে এসে বলতে পারেন না। আমরা চাইছি সেই জায়গাটার অবসান ঘটুক। প্রতিটি নাগরিক সুবিচার পান।

এছাড়াও আরো একটি বিষয় আমরা আজকে বলতে চাইছি। সেটা হল এই ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স  অ্যাক্টের সেকশন ৯ অনুসারে একজন প্রোটেকশন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডোমেস্টিক ইন্সিডেন্ট রিপোর্ট অর্থাৎ গার্হস্থ্য হিংসা বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ রিপোর্ট অর্থাৎ DIR পেশ করার জন্য। অথচ কার্যক্ষেত্রে দেখা যায় ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের জন্য যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এই  DIR রিপোর্টটি সম্পূর্ণ তার হুবহু কপি করে জমা দেয়া হয়। কবে কিভাবে অভিযোগের সত্যাসত্য নির্ধারণ করা হলো সে সমস্ত কিছুই বোঝা যায় না। পরবর্তীকালে বহুসংখ্যক DV মামলা মিথ্যা প্রমান হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ এই মামলা চলার ফলে স্বামী এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন হেনস্থা ভোগ করেন। আমরা তাই প্রটেকশন অফিসার যিনি রয়েছেন তার কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি তিনি যেন যথোপযুক্ত তদন্ত করে তবেই DIR রিপোর্ট আদালতে পেশ করেন। এর ফলে বহুসংখ্যক নিরীহ মানুষ অযথা আইনি সমস্যার হাত থেকে নিষ্কৃতি পাবেন বলে আমরা মনে করি।

পুরুষের স্বার্থে আমাদের সংগঠন পুরুষ কল্যাণ এইভাবেই লড়াই করে যাবে। আমরা চাই আপনারাও পুরুষদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এই আন্দোলনে এগিয়ে আসুন।

পুরুষ কল্যান পাবলিক চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট।





Others News

ভাদ্র শেষে লৌহ পাব্বন - যুক্তিবাদ ও মানবতাবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে একটা আড্ডা

ভাদ্র শেষে লৌহ পাব্বন - যুক্তিবাদ ও মানবতাবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে একটা আড্ডা


"ভাদ্র শেষে লৌহ পাব্বন"। হ্যাঁ, ঠিক এই নামেই ধর্মীয় আচার বর্জিত এক আড্ডার আয়োজন করলেন বেলঘরিয়ার আড়িয়াদহ এলাকার এক ক্ষুদ্র কারখানার মালিক মানষ মাইতি। তিনি সমাজকে এক নতুন বার্তা দিলেন। মানবতাবাদী যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক মানুষদেরকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠান করেন। সাক্ষ্য এবং সহায়ক হতে আমন্ত্রণ জানালেন ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতিকে। আমন্ত্রনে উৎসাহী হয়ে এগিয়ে এলেন ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির জেলা সম্পাদক সিরাজ, ও সমিতির সদস্যরা। মিলিত ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় পূজার পরিবর্তে এই দিনে ভিন্নভাবে উৎসবে মেতে ওঠেন মানবতাবাদী, যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানমনস্ক মুক্তমনা মানুষেরা। অনুষ্ঠানের সুর ধরিয়ে দিলেন ক্ষুদ্র বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে ওই কারখানারই শ্রমিক যোগেন ভৌমিক। তার ভাবনার চোখ দিয়ে আঙুল উঁচিয়ে দেখালেন শ্রমিক শ্রেণীদের কিভাবে শোষণ করা হচ্ছে। এবং তার পরিবর্তে বছরে একটা দিন তাদের নেশাগ্রস্ত করে তাদেরকে আবার কিভাবে একটি বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করানো হয় অল্প কিছু পারিশ্রমিকের বিনিময়। তিনি তার বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরেন বিশ্বকর্মা নয়, মানুষই পূজনীয়। পুরাণের বেহুলা লক্ষ্মীন্দরের লোহার ঘর নির্মাণের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বকর্মা কখনও পূজনীয় হতে পারেন না। মানষ মাইতি তার কারখানায় পুজো না করে তার ক্ষুদ্র প্রয়াসের মধ্যে সমাজকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন এটি একটি মানুষের তৈরি রীতি এই রীতির সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক জুড়েছে এর সাথে বাস্তবের কোনো সম্পর্ক নেই। মানুষের ভাগ্য বলে কিছু নেই। মানষ মাইতি আরো কিছু বক্তব্যের মধ্যে মূল্যবান একটি কথা বলেন। বিশ্বকর্মা পূজা নয়, বিশ্বকর্মা পূজার দ্বারা কারখানার উন্নতি এবং ভবিষ্যৎ উন্নত হতে পারে না। কিন্তু দিনে দিনে বিশ্বকর্মা পূজা কে কেন্দ্র করে এই দিনে যেভাবে নেশার শিকার হচ্ছে মানুষ, তাতে অবশ্যই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি নেশাগ্রস্ত সমাজে পরিণত হবে সেই অনুমান করা যায়। বিশ্বকর্মা পূজা না করে তিনি তার শ্রমিকদেরকে তাদের অধিকারের কথা বলেন সাম্যের সমাজের দাবি তোলেন। লৌহ পাব্বন দিনে সকলেই যখন বিশ্বকর্মা পুজোয় মেতে উঠেছেন তখন তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলেই মুক্ত কন্ঠে প্রশংসা করেন। আড্ডায় সকলেই একমত হন এই যে- মানুষের হাতে তৈরী ভগবান মানুষের চলার পথে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। ভগবানের অবদান শূন্য। এই পুজো, উৎসব কেন্দ্র করে যে বাজার গড়ে ওঠে তার বিকল্প সন্ধানে প্রশাসনের কর্মকর্তারা উদাসীন। একই সাথে খেটে খাওয়া দিনমজুর স্থায়ী, অস্থায়ী শ্রমিকদের মদ মাংসে আনন্দে মাতিয়ে তুলেছেন কল কারখানার মালিক থেকে ক্ষুদ্র শিল্প মালিকানা ব্যক্তিরা। যুক্তিবাদী সমিতির সদস্যা আনজুরা দুঃখের সাথে বলেন, পুজো পার্বণ এলে মানুষের মধ্যে প্রধানত দুটি ভাগে বিভাজন হয়ে যায়। পুজোর পরিবর্তে শ্রমিকদের নিয়ে ধর্মীয় আচার বর্জিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি তার আনন্দ প্রকাশ করেন। এবং বলেন মানুষকে একটি জাতি, ধর্মের দ্বারা বিভাজন করা চিরস্থায়ীভাবে সম্ভব নয়। এই অনুষ্ঠানই তার স্বাক্ষ্য রইল। এই অনুষ্ঠানে এসে আমি গর্বিত। থিয়েটার কর্মী ও যুক্তিবাদী সমিতির সদস্য আশিস মজুমদার বলেন- এই রকম একটা উদ্যোগের সাক্ষী হতে পেরে আমি গর্বিত। সঙ্গে তিনি এও জানতে চান "ভাদ্র শেষে লৌহ পাব্বন" অনুষ্ঠানটি কি বিশ্বকর্মা পুজোর দিন পরিবর্তন হলে এই দিনটিও পরিবর্তন হবে? নাকি প্রতিবছর একই দিনে হবে? যুক্তিবাদী সমিতির সদস্য রামকৃষ্ণ সাহা স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন। তার কবিতায় ফুটে ওঠে- সাধারণ মানুষের দুঃখ দৈন্যদশার চিত্র। তিনি আরও বলেন সরকার শিল্পপতিদের তোষন করেন। আর সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন ভাগ্যের দোহাই দিয়ে পরাজয়, দুর্দশা মেনে নেওয়া মানে শোষকের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া। তাই ভাগ্য নির্ভর না হয়ে ঘটনার বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বলেন। যুক্তিবাদী সমিতির উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা কমিটির সম্পাদক সিরাজ এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বর্তমান সময়ে ধর্মের নামে দেশে বিদেশে যে অস্থিরতা তৈরী হয়েছে তার মোকাবিলায় যুক্তিই একমাত্র সঠিক দিশা দেখাতে পারে। তাই ধর্মমত নির্বিশেষে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলার আহ্বান জানান।