বন্ধন ব্যাঙ্কের উদ্যোগে - বিনা পয়সার ইস্কুল

24th January 2021 10:59 pm স্থানীয় খবর
বন্ধন ব্যাঙ্কের উদ্যোগে - বিনা পয়সার ইস্কুল


করোনার কারণে বন্ধ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই ছাত্র-ছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে তাদের পড়ানোর নতুন উদ্যোগ নিল উত্তর 24 পরগনার বাদুড়িয়ার বন্ধন ব্যাংকের কর্তৃপক্ষরা। বাদুড়িয়া ব্লকের  রঘুনাথপুর অঞ্চলের উত্তর গুড়দহগ্রামে বন্ধন শিক্ষা কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়।এই শিক্ষাকেন্দ্র উদ্বোধনে খুশির হাওয়া বয়ে যায় এলাকার গ্রামের মানুষের মধ্যে ।এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাদুড়িয়া সার্কেলের শিক্ষাবন্ধু আব্দুল মান্নান ।তিনি বলেন অনেক ছোট ছোট  বাচ্চারা যখন থ্রি ফোর ক্লাস পাস করে প্রাইমারি স্কুল থেকে বেরিয়ে যায় তখন অনেক বাচ্চারা রিডিং পড়তে পারেনা ।বন্ধন সেই কাজটা করে যাতে প্রত্যেকে রিডিং পড়তে পারে ।এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাদুড়িয়া ব্লক এর রঘুনাথপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নূরনাহার আহমেদ ,পঞ্চায়েত সদস্য আলি আইনুর মোল্লা, সমাজসেবক আব্দুল রফিক এবং এলাকার মানুষগণ ।বন্ধন স্কুলের টিম লিডার রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন বন্ধন স্কুলে মূলত 30 জন ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে পড়া শুরু করানো হয়। তাই এবছর করোনার কথা মাথায় রেখে তারা দুটো শিফটে 15 জন 15 জন করে সোশ্যাল দূরত্ব বজায় রেখে ,প্রত্যেকের মুখে মাক্স পড়ে ক্লাস গুলি চালু করা হয় ।বন্ধনের এই অনুষ্ঠানে ছোট ছোট বাচ্চাদের বিনা পয়সায় বই দেওয়া হয় ও ছোটদের বসে আঁকো প্রতিযোগিতা হয়।





Others News

ভাদ্র শেষে লৌহ পাব্বন - যুক্তিবাদ ও মানবতাবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে একটা আড্ডা

ভাদ্র শেষে লৌহ পাব্বন - যুক্তিবাদ ও মানবতাবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে একটা আড্ডা


"ভাদ্র শেষে লৌহ পাব্বন"। হ্যাঁ, ঠিক এই নামেই ধর্মীয় আচার বর্জিত এক আড্ডার আয়োজন করলেন বেলঘরিয়ার আড়িয়াদহ এলাকার এক ক্ষুদ্র কারখানার মালিক মানষ মাইতি। তিনি সমাজকে এক নতুন বার্তা দিলেন। মানবতাবাদী যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক মানুষদেরকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠান করেন। সাক্ষ্য এবং সহায়ক হতে আমন্ত্রণ জানালেন ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতিকে। আমন্ত্রনে উৎসাহী হয়ে এগিয়ে এলেন ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির জেলা সম্পাদক সিরাজ, ও সমিতির সদস্যরা। মিলিত ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় পূজার পরিবর্তে এই দিনে ভিন্নভাবে উৎসবে মেতে ওঠেন মানবতাবাদী, যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানমনস্ক মুক্তমনা মানুষেরা। অনুষ্ঠানের সুর ধরিয়ে দিলেন ক্ষুদ্র বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে ওই কারখানারই শ্রমিক যোগেন ভৌমিক। তার ভাবনার চোখ দিয়ে আঙুল উঁচিয়ে দেখালেন শ্রমিক শ্রেণীদের কিভাবে শোষণ করা হচ্ছে। এবং তার পরিবর্তে বছরে একটা দিন তাদের নেশাগ্রস্ত করে তাদেরকে আবার কিভাবে একটি বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করানো হয় অল্প কিছু পারিশ্রমিকের বিনিময়। তিনি তার বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরেন বিশ্বকর্মা নয়, মানুষই পূজনীয়। পুরাণের বেহুলা লক্ষ্মীন্দরের লোহার ঘর নির্মাণের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বকর্মা কখনও পূজনীয় হতে পারেন না। মানষ মাইতি তার কারখানায় পুজো না করে তার ক্ষুদ্র প্রয়াসের মধ্যে সমাজকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন এটি একটি মানুষের তৈরি রীতি এই রীতির সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক জুড়েছে এর সাথে বাস্তবের কোনো সম্পর্ক নেই। মানুষের ভাগ্য বলে কিছু নেই। মানষ মাইতি আরো কিছু বক্তব্যের মধ্যে মূল্যবান একটি কথা বলেন। বিশ্বকর্মা পূজা নয়, বিশ্বকর্মা পূজার দ্বারা কারখানার উন্নতি এবং ভবিষ্যৎ উন্নত হতে পারে না। কিন্তু দিনে দিনে বিশ্বকর্মা পূজা কে কেন্দ্র করে এই দিনে যেভাবে নেশার শিকার হচ্ছে মানুষ, তাতে অবশ্যই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি নেশাগ্রস্ত সমাজে পরিণত হবে সেই অনুমান করা যায়। বিশ্বকর্মা পূজা না করে তিনি তার শ্রমিকদেরকে তাদের অধিকারের কথা বলেন সাম্যের সমাজের দাবি তোলেন। লৌহ পাব্বন দিনে সকলেই যখন বিশ্বকর্মা পুজোয় মেতে উঠেছেন তখন তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলেই মুক্ত কন্ঠে প্রশংসা করেন। আড্ডায় সকলেই একমত হন এই যে- মানুষের হাতে তৈরী ভগবান মানুষের চলার পথে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। ভগবানের অবদান শূন্য। এই পুজো, উৎসব কেন্দ্র করে যে বাজার গড়ে ওঠে তার বিকল্প সন্ধানে প্রশাসনের কর্মকর্তারা উদাসীন। একই সাথে খেটে খাওয়া দিনমজুর স্থায়ী, অস্থায়ী শ্রমিকদের মদ মাংসে আনন্দে মাতিয়ে তুলেছেন কল কারখানার মালিক থেকে ক্ষুদ্র শিল্প মালিকানা ব্যক্তিরা। যুক্তিবাদী সমিতির সদস্যা আনজুরা দুঃখের সাথে বলেন, পুজো পার্বণ এলে মানুষের মধ্যে প্রধানত দুটি ভাগে বিভাজন হয়ে যায়। পুজোর পরিবর্তে শ্রমিকদের নিয়ে ধর্মীয় আচার বর্জিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি তার আনন্দ প্রকাশ করেন। এবং বলেন মানুষকে একটি জাতি, ধর্মের দ্বারা বিভাজন করা চিরস্থায়ীভাবে সম্ভব নয়। এই অনুষ্ঠানই তার স্বাক্ষ্য রইল। এই অনুষ্ঠানে এসে আমি গর্বিত। থিয়েটার কর্মী ও যুক্তিবাদী সমিতির সদস্য আশিস মজুমদার বলেন- এই রকম একটা উদ্যোগের সাক্ষী হতে পেরে আমি গর্বিত। সঙ্গে তিনি এও জানতে চান "ভাদ্র শেষে লৌহ পাব্বন" অনুষ্ঠানটি কি বিশ্বকর্মা পুজোর দিন পরিবর্তন হলে এই দিনটিও পরিবর্তন হবে? নাকি প্রতিবছর একই দিনে হবে? যুক্তিবাদী সমিতির সদস্য রামকৃষ্ণ সাহা স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন। তার কবিতায় ফুটে ওঠে- সাধারণ মানুষের দুঃখ দৈন্যদশার চিত্র। তিনি আরও বলেন সরকার শিল্পপতিদের তোষন করেন। আর সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন ভাগ্যের দোহাই দিয়ে পরাজয়, দুর্দশা মেনে নেওয়া মানে শোষকের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া। তাই ভাগ্য নির্ভর না হয়ে ঘটনার বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বলেন। যুক্তিবাদী সমিতির উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা কমিটির সম্পাদক সিরাজ এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বর্তমান সময়ে ধর্মের নামে দেশে বিদেশে যে অস্থিরতা তৈরী হয়েছে তার মোকাবিলায় যুক্তিই একমাত্র সঠিক দিশা দেখাতে পারে। তাই ধর্মমত নির্বিশেষে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলার আহ্বান জানান।